বিলোনিয়া ডিভিশনের রতনপুর সাবজনাল অফিস সংলগ্ন এলাকায় বারবার দুর্ঘটনা, প্রশাসনের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি স্থানীয়দের।
বিলোনিয়া | মার্চ, ২০২৬ঃ দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া ডিভিশনের অন্তর্গত রতনপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় আবারও এক মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা সামনে এসেছে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকাটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত হলেও, এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বিকেল প্রায় ৫টা নাগাদ বিলোনিয়া থেকে একটি সিমেন্ট বোঝাই বোলেরো গাড়ি জুলাইবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ঠিক সেই সময়ে, বিপরীত দিক থেকে অর্থাৎ জুলাইবাড়ি থেকে একটি মোটরবাইক বিলোনিয়ার দিকে আসছিল। রতনপুর বাজারে পৌঁছানোর পরই দুটি গাড়ির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে, যা মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ রূপ নেয়।
দুর্ঘটনায় আহত হন বাইক চালক জিকো পাল, যার বাড়ি বাইখোড়া পূর্ব চরকপাই এলাকায়। সংঘর্ষের ধাক্কায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং বাইকটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, বোলেরো গাড়ির চালক রাজু দেবনাথ, যার বাড়ি বিলোনিয়া বংকর এলাকায়, দ্রুত মানবিক উদ্যোগ নিয়ে আহত জিকো পালকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা জয়ন্ত ত্রিপুরার সহায়তায় আহত ব্যক্তিকে দ্রুত মরিপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, মাথায় হেলমেট থাকার কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকেও প্রাণে বেঁচে গেছেন জিকো পাল, যা সড়ক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হেলমেট ব্যবহারের গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
এদিকে ঘটনাস্থলে বিলোনিয়া থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী জয়ন্ত ত্রিপুরা জানান, এই দুর্ঘটনায় কোনো একক পক্ষকে দোষারোপ করা কঠিন, কারণ উভয় পক্ষেরই কিছুটা অসাবধানতা ছিল। তবে ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে বাইক চালকই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, রতনপুর সাবজনাল অফিস সংলগ্ন এই এলাকায় এর আগেও একাধিকবার দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরেই এখানে ট্রাফিক ব্যারিয়ার, স্পিড ব্রেকার এবং সাইনবোর্ড বসানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এই এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, যা প্রাণহানির কারণও হতে পারে। তাই প্রশাসনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আবেদন জানানো হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও প্রশ্ন উঠছে—কবে নাগাদ দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন? এবং কবে নাগাদ সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে?








