মহারাজা প্রদ্যুৎ দেববর্মণের উপস্থিতির ঘোষণা থাকলেও প্রত্যাশিত জনসমাগম নিয়ে উঠল জল্পনা।
শান্তির বাজার প্রতিনিধি: আসন্ন স্বায়ত্তশাসিত জেলা পরিষদ (ADC) নির্বাচনকে সামনে রেখে ত্রিপুরার রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্রমেই বাড়ছে তৎপরতা। বিশেষ করে জনজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে রাজনৈতিক দলগুলির জনসংযোগ কর্মসূচি ও প্রকাশ্য সভা এখন তুঙ্গে। এই প্রেক্ষাপটেই দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমার অন্তর্গত তৈইনানি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তিপ্রা মথা দলের উদ্যোগে এক প্রকাশ্য জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এই জনসমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে ছিল বাড়তি নজর, কারণ সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল তিপ্রা মথার সুপ্রিমো তথা মহারাজা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণের। পাশাপাশি সভামঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এডিসির কার্যনির্বাহী সদস্য ডলি রিয়াং, তিপ্রা মথার জনজাতি সমাজে পরিচিত মুখ ও দক্ষিণ জোনাল জয়েন্ট চেয়ারম্যান হরেন্দ্র রিয়াং, শান্তিরবাজার ডিভিশনাল কমিটির ব্লক সভাপতি রসনজিৎ রিয়াং সহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
সমাবেশ প্রসঙ্গে ব্লক সভাপতি রসনজিৎ রিয়াং দাবি করেন, এই প্রকাশ্য জনসভার মাধ্যমেই প্রায় ৩০টি পরিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছেড়ে তিপ্রা মথা দলে যোগদান করতে চলেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিপ্রা মথা জনজাতি স্বার্থরক্ষার পাশাপাশি সমগ্র এডিসি এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা দলের প্রতি বাড়ছে।
তবে বাস্তব চিত্রে দেখা যায়, এদিন তৈইনানিতে অনুষ্ঠিত তিপ্রা মথার এই প্রকাশ্য জনসমাবেশে প্রত্যাশিত সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি। মাঠে তুলনামূলকভাবে কম মানুষের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। আসন্ন এডিসি নির্বাচনের আগে এই সভাকে ঘিরে দল যে বড়সড় শক্তি প্রদর্শনের আশা করেছিল, তা কতটা বাস্তবায়িত হলো—তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বিগত পাঁচ বছরে তিপ্রা মথার নেতৃত্বাধীন এডিসি সরকার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারেনি। রাস্তা, পানীয় জল, স্বাস্থ্য পরিষেবা, কর্মসংস্থান এবং মৌলিক পরিকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ জমে উঠেছে বলে দাবি তাঁদের।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অসন্তোষ শুধু জনজাতি সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এডিসি এলাকার অজনজাতি সাধারণ মানুষের মধ্যেও একই ধরনের হতাশা ও প্রশ্ন উঠে আসছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জনঅসন্তোষ আসন্ন এডিসি নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে সংবাদ লেখা পর্যন্ত তিপ্রা মথার সুপ্রিমো মহারাজা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণ এখনো পর্যন্ত সমাবেশ প্রাঙ্গনে উপস্থিত হননি। তাঁর উপস্থিতি ও বক্তব্য ঘিরে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে অপেক্ষা ও কৌতূহল অব্যাহত রয়েছে। শেষ পর্যন্ত এই সভা থেকে কী রাজনৈতিক বার্তা উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।







