নেশার কারবারে কড়া আঘাত; জগদীশ সরকার হত্যা মামলার মূল আসামী প্রিয়লাল সরকারের বাগান গুঁড়িয়ে দিল পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী।
তেলিয়ামুড়া, ৫ জানুয়ারী ২০২৬: রাজ্যজুড়ে নেশা বিরোধী অভিযানের অঙ্গ হিসেবে ফের একবার বড়সড় সাফল্য পেল তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ। গোপন খবরের ভিত্তিতে সোমবার সাতসকালে থানা এলাকার লেম্বুছড়া গ্রামে এক বিশাল অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা চাষ ধ্বংস করল নিরাপত্তা বাহিনী। পুলিশ সূত্রে খবর, তিনটি পৃথক প্লটে প্রায় পাঁচ শতাধিক গাঁজা গাছ লাগিয়ে নেশার কারবার চালানো হচ্ছিল। ধ্বংসকৃত এই বিশাল পরিমাণ গাঁজার বাজারমূল্য আনুমানিক এক থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশের কাছে আগে থেকেই খবর ছিল যে, লেম্বুছড়া এলাকার দুর্গম বাগানগুলোতে অবৈধভাবে গাঁজা চাষ করা হচ্ছে। সেই খবরের সত্যতা যাচাই করে এদিন অভিযানে নামে পুলিশ। এদিনের এই মেগা অভিযানের নেতৃত্ব দেন তেলিয়ামুড়া থানার সেকেন্ড অফিসার (ওসি) অজিত দেববর্মা। পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই অভিযানে সামিল হয়েছিল সি.আর.পি.এফ (CRPF) এবং টি.এস.আর (TSR)-এর জওয়ানরা। এলাকাটি ঘিরে ফেলে একে একে তিনটি বড় প্লটে তল্লাশি চালানো হয় এবং পরিপক্ক ৫শটি গাঁজা গাছ কেটে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর অনুযায়ী, যে জমিতে এই বিশাল গাঁজা বাগান গড়ে তোলা হয়েছিল, তার মালিক প্রিয়লাল সরকার। এই প্রিয়লাল সরকার এলাকায় একজন দুর্ধর্ষ অপরাধী হিসেবে পরিচিত। সে বিগত কয়েক বছর আগের চাঞ্চল্যকর জগদীশ সরকার হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত।
পুরানো সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বছর কয়েক আগে একই এলাকার যুবক জগদীশ সরকারের সাথে প্রিয়লাল সরকারের বোনের একটি প্রণয়ঘটিত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সেই আক্রোশ থেকেই প্রিয়লাল সরকার জগদীশকে অপহরণ করে নিজের ঘরে নিয়ে যায় এবং সেখানে বস্তাবন্দি করে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই খুনের মামলার প্রধান আসামী এবার লিপ্ত হয়েছে নেশার কারবারে।
অভিযান শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তেলিয়ামুড়া থানার সেকেন্ড ওসি অজিত দেববর্মা সাফ জানিয়ে দেন, “অপরাধী যেই হোক, কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না। এলাকায় কোনো ধরনের নেশার কারবার বরদাস্ত করা হবে না।” তিনি আরও যোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী ‘নেশামুক্ত ত্রিপুরা’ গড়ার লক্ষ্যে তেলিয়ামুড়া থানার এই ধরনের অভিযান আগামীদিনেও অব্যাহত থাকবে। কোনো এলাকায় যদি এধরনের কোনো অবৈধ কার্যকলাপের খবর থাকে, তবে সাধারণ মানুষকে তা পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিনের এই সাফল্যের ফলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে অভিযুক্ত প্রিয়লাল সরকার বর্তমানে পলাতক কি না বা তার বিরুদ্ধে নতুন করে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।








