তার মৃতদেহ তার নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছতেই এলাকাজুড়ে কান্নার রোল ভেসে উঠল। এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত তার মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছে শেষকৃত্য সম্পন্ন করার জন্য। ঘটনার তদন্তে পুলিশ বলে খবর। সংবাদে প্রকাশ যে গত রবিবার বিকেলে, কৈলাসহর শ্রীরামপুর ব্রীজের উপরে এক মর্মান্তিক যান দুর্ঘটনা ঘটে। সূত্রের খবর যে পণ্যবাহী একটি মিনি ক্যান্টার ধলাই জেলার মনুঘাটে দুর্ঘটনা ঘটায়। এরপরই স্থানীয় জনতা গাড়ি সহ চালককে পাকড়াও করতে পিছু নেয়। চালক প্রাণে বাঁচতে গাড়ি নিয়ে ছুটতে ছুটতে কৈলাসহরে প্রবেশ করে। ততক্ষণে কৈলাসহর পুলিশের কাছে ঐ ঘটনার খবর পৌঁছতেই তারাও গাড়িটিকে আটক করতে উৎ পাতে। গাড়িটি ততক্ষণে একটি গরুকে চাপা দিয়ে হত্যা করার পর শ্রীরামপুর ব্রীজের উপর দিয়ে তীব্র গতিতে ছুটতে থাকে। সেই সময় কৈলাসহর ধনবিলাস পঞ্চায়েতের এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোপেস্বর সিনহার কণিষ্ঠ পুত্র তথা কৈলাসহর রামকৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়ের অন্তিম বর্ষে পাঠরত ছাত্র, প্রায় একুশ বর্ষীয় যুবক সুকান্ত সিনহা নিজ বাইকে চেপে শ্রীরামপুর হয়ে বাড়ি ফিরছিল। তখনই ব্রীজের উপর ঘটে বিপত্তি। ক্যান্টার চালক সজোরে ধাক্কা দেয় সুকান্তকে। ধাক্কা এতটাই তীব্র ছিল যে গাড়িটি লোহার ব্রীজের সাথে ধাক্কা খেয়ে পুরো দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং চালক গাড়ির ভেতরেই আটকে যায়। স্থানীয়রা ততক্ষণে অগ্নি দপ্তরকে খবর পাঠালে রক্তাক্ত সুকান্তকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে।
পরে গাড়ি চালককেও উদ্ধার করে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সুকান্তের অবস্থার মারাত্মক অবনতি দেখে রেফার করা হয় জিবি হাসপাতালে। একপ্রকার কোমায় চলে যায় সুকান্ত। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে লড়তে বুধবার ভোরে জিবি হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সুকান্ত। তার সুষ্ঠু চিকিৎসার জন্য বহু মানুষ তাকে আর্থিক সাহায্য দিয়েও সাহায্য করেছেন, তবে বাঁচানো গেল না সুকান্তকে। তার মৃত্যুর খবর এলাকায় এসে পৌঁছতেই সহপাঠী সহ পুরো গ্রামের মানুষ তাকে শেষ বারের মত দেখতে ভীড় জমায় এলাকায়। তার মা বাবা ভাই বোন সহ প্রত্যেকের চোখেই বইছিল অবিরাম অশ্রুধারা। বিকেল তখন তিনটে পঞ্চান্ন মিনিট। তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে তাকে নিয়ে যাওয়া হল নিজ বাড়ির পুকুর পারে। সে এক করুণ দৃশ্য। উল্লেখ্য যে মৃত সুকান্ত সিনহা হল ভাই বোনের মধ্যে কণিষ্ঠ। তারা তিন বোন এবং দুই ভাই। মা বাসন্তী সিনহার বুক ফাটানো আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠছিল। পিতা গোপেস্বর সিনহা যেন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।








