মধুলা সদার পাড়ায় ছয় মাস ধরে বিদ্যুৎবিহীন জীবন, পানীয় জলেরও তীব্র সংকট।
স্থান: মধুলা সদার পাড়া, মহুরীপুর আর এফ গ্রাম পঞ্চায়েত, জোলাইবাড়ি আর ডি ব্লক, ত্রিপুরা
জোলাইবাড়ি, ত্রিপুরা । ২৯ জুলাই । রিপোর্ট; বাহাদুর ত্রিপুরাঃ ত্রিপুরার দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত জোলাইবাড়ি আর ডি ব্লকের অন্তর্গত মধুলা সদার পাড়া, মহুরীপুর আর এফ গ্রাম পঞ্চায়েতের এক অংশ বর্তমানে চরম সমস্যার মুখে পড়েছে। দীর্ঘ ছয় থেকে সাত মাস ধরে এই গ্রামের অন্তত ১১টি পরিবার সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। শুধু বিদ্যুৎই নয়, পানীয় জল, সড়ক, এবং অন্যান্য মৌলিক নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও চরম অব্যবস্থা বিরাজ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যদিও গ্রামে বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে, তবুও ১১টি পরিবার কোনওরকম সংযোগ পাচ্ছেন না। অভিযোগ, ইলেকট্রিক অফিসে যোগাযোগ করলে কর্মীরা তাদের সংযোগের বিনিময়ে অর্থ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। ক্ষোভের সাথে বাসিন্দারা বলেন, “সরকার যদি বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলে, তাহলে আমরা কেন টাকা দেব? এটা আমাদের অধিকার, দয়া নয়।”
এছাড়াও গ্রামে পানীয় জলের সুব্যবস্থা নেই বললেই চলে। নারীরা ও শিশুদের প্রতিদিন অনেক দূর হেঁটে ঝুঁকিপূর্ণ পথ পার হয়ে জল আনতে হয়। বর্ষার সময়ে এই সমস্যা আরো প্রকট হয়ে দাঁড়ায়, কারণ তখন গ্রামের রাস্তা কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে, যা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

এই সংকট সরাসরি প্রভাব ফেলেছে শিক্ষাক্ষেত্রে। গ্রামবাসীদের ভাষ্যে, “ছাত্রছাত্রীরা সন্ধ্যার পর পড়াশোনা করতে পারে না। অন্ধকারে বসে কিভাবে পড়বে বলুন? বিদ্যুৎ না থাকলে মোবাইল চার্জ করা যায় না, অনলাইন ক্লাস নেওয়া যায় না, এমনকি হোমওয়ার্কও করতে কষ্ট হয়।”
স্থানীয়দের প্রধান দাবি, জোলাইবাড়ি বিধানসভার মাননীয় বিধায়ক শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া যেন একবার এসে গ্রামে তাদের সঙ্গে দেখা করেন এবং অবিলম্বে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ নেন।
“ভোটের সময় নেতারা এসে প্রতিশ্রুতি দেন, বলেন সব সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু এরপর তারা আর ফিরে তাকান না,”—এমন ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন গ্রামের প্রবীণ এক সদস্য।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গ্রামবাসীরা চাইছেন, সরকার যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে বিদ্যুৎ সংযোগ, পানীয় জল, এবং রাস্তার উন্নয়ন নিশ্চিত করে। তারা বলেন, “আমরা কারো কাছে ভিক্ষা চাইছি না, নিজেদের নাগরিক অধিকার আদায় চাইছি। সরকারের উচিত আমাদের কথা শোনা।”








