পুলিশ তৎপরতা সত্ত্বেও লাগামছাড়া ড্রাগস ব্যবসা, খোয়াইয়ে এলাকাবাসীর হাতে ধৃত চিহ্নিত পাচারকারী।
খোয়াই । ২৬ জুলাই ২০২৫ঃ ত্রিপুরার খোয়াই শহরে দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধ ড্রাগস ব্যবসার পরিধি। প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও পুলিশের তৎপরতা সত্ত্বেও কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না এই মরণনেশার ছায়া বিস্তার। শহরের নানা প্রান্তে চোখের আড়ালে ড্রাগস কেনাবেচার অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আসছিল, কিন্তু এবার তা রীতিমতো এলাকাবাসীর সহ্যের সীমা অতিক্রম করেছে।
আজ দুপুর ১টা নাগাদ খোয়াই শহরের অরবিন্দ পার্ক সংলগ্ন এলাকায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এলাকার সাধারণ মানুষ নিজেরাই হাতে তুলে নেন পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ। এক টমটম চালকের ছদ্মবেশে চলছিল ড্রাগস সরবরাহের কাজ। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে ওই ব্যক্তিকে নজরে রেখেছিলেন। অভিযোগ, তিনি প্রায় প্রতিদিনই শহরের বিভিন্ন প্রান্তে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের কাছে অবৈধ মাদকদ্রব্য পৌঁছে দিচ্ছিলেন।

আজ দুপুরে এক ব্যক্তির কাছে ড্রাগস বিক্রির উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় এলে স্থানীয় মানুষজন তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। শুরু হয় উত্তেজনা। লোকজন তাকে ঘিরে ধরে জেরা করতে থাকেন এবং তল্লাশির পর তার কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার হয় বলে জানা যায়।
তৎক্ষণাৎ খবর পাঠানো হয় খোয়াই থানায়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। পুলিশ এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে যায় এবং তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এমন ঘটনা শুধু আজকের নয়। খোয়াই শহরে ড্রাগস কারবারিদের দৌরাত্ম্য দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকের প্রতি আসক্তি বেড়ে চলেছে, যার ফলে সমাজে বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা, এবং ধ্বংস হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
এলাকাবাসীর একাংশের প্রশ্ন—যদি দিনের পর দিন এই ব্যবসা চলতেই থাকে, তবে প্রশাসনের ভূমিকা কোথায়? তারা কেন আগেভাগেই এই ধরণের কাজকে থামাতে পারছে না?

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার গোপনে ড্রাগস বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল। তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় খোয়াইবাসীর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে পড়েছে। তারা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, শহর থেকে মাদকদ্রব্যের অবাধ বেচাকেনা রুখতে যেন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং ড্রাগস ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে চালানো হয় নিরবচ্ছিন্ন অভিযান।








