হাটের মাটিতে বসেই কৃষকদের দুঃখ ভাগ করলেন মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, হাতির আতঙ্কে জর্জর কৃষিজীবনে আশার আলো।
ত্রিপুরা । ১৭ জুলাই ২০২৫ । নিউজ ডেস্কঃ তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত চাকমাঘাট অঞ্চলের জারুইলং বাড়ি হাটে এক মানবিক ও তাৎপর্যপূর্ণ সফরে উপস্থিত হয়ে কৃষকদের হৃদয়ের কাছাকাছি পৌঁছালেন রাজ্যের উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাটে এসে উপস্থিত হয়ে, সরকারি প্রটোকলের কোনো তোয়াক্কা না করেই, তিনি মাটির উপর দাঁড়িয়ে সাধারণ কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা শোনেন মনোযোগ দিয়ে।
সন্ধ্যার সময় হাটে কৃষকরা নিজেদের হাতে ফলানো ফসল নিয়ে বসেছিলেন বিক্রির আশায়। তখনই এসে হাজির হন মন্ত্রী। কোনো প্রচার নয়, কোনো মঞ্চ নয়— সরাসরি হাটের মাটিতে বসে শুরু হয় কথোপকথন। কৃষকদের মুখে মুখে উঠে আসে এক অভিন্ন যন্ত্রণার কথা—বন্য দাঁতাল হাতির হানা। এই হাতির দল রাত্রিকালীন আক্রমণে ফসল নষ্ট করে দিচ্ছে, জমি তছনছ করছে, অর্থনৈতিকভাবে তলানিতে ঠেলে দিচ্ছে পরিবারগুলোকে।
চাকমাঘাট পঞ্চায়েতের প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবার কৃষিনির্ভর। তাঁদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন কৃষিকাজ। ফলে এই ধরনের ক্ষয়ক্ষতি তাঁদের শুধু আর্থিক বিপর্যয় নয়, বরং সামাজিক ও পারিবারিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি করছে। সন্তানদের পড়াশোনা, সংসার চালানো, এমনকি প্রাথমিক জীবনধারণ—সবকিছুতেই তৈরি হচ্ছে বাধা।
এই বাস্তব পরিস্থিতি সামনে রেখে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা জানান, “আমি কৃষকদের কষ্ট বুঝতে পেরেছি। তাঁদের উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং সমস্যা সমাধান আমাদের সরকারের অগ্রাধিকার। ইতিমধ্যেই বনমন্ত্রী ও বন দপ্তরের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের পথে এগোনো হচ্ছে। খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে কৃষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।”
তিনি আরও জানান, “আমাদের কৃষকরা আজ আত্মনির্ভর। তাঁরা নিজেরাই উৎপাদন করছেন, বাজারে নিয়ে আসছেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে এগিয়ে নিচ্ছেন। তাঁদের জন্য এমন এক ছাউনি বিশিষ্ট, সুরক্ষিত ও পরিকাঠামোগতভাবে উন্নত হাট তৈরি করা হবে যেখানে তাঁরা নির্বিঘ্নে বেচাকেনা করতে পারবেন।”
মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার এই সরাসরি উপস্থিতি ও মানবিক মনোভাব জারুইলং হাটকে যেন একদিনের কৃষক দরবারে পরিণত করেছিল। সরকারের প্রতিনিধি নিজে সাধারণ মানুষের কাছে এসে তাঁদের জীবনযাত্রার বাস্তবতা উপলব্ধি করছেন—এটি শুধুই প্রতীকী নয়, বরং একটি কার্যকর উদ্যোগের বার্তা।
চাকমাঘাটের গ্রামীণ সমাজে এই সফর নতুন ভরসা জাগিয়েছে। এটি ছিল শুধুমাত্র একটি সফর নয়, বরং প্রশাসনের দায়িত্ববোধ, কৃষকের মর্যাদা এবং সরকারের তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কের দৃঢ় নিদর্শন। রাজনীতির ভাষার বাইরেও এই সফর বলে দেয়—মানবিকতা এখনও বেঁচে আছে, সরকারের উচ্চমহল থেকেও।
জারুইলং বাড়ি হাটে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার এই সফর ত্রিপুরার কৃষকজীবনের পাশে সরকারের দাঁড়ানোর এক আন্তরিক প্রয়াস হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেতে চলেছে। শুধু কথার আশ্বাস নয়, বাস্তব পদক্ষেপের আশাতেই এখন বুক বাঁধছে চাকমাঘাটের কৃষকসমাজ।








