তেলিয়ামুড়ায় দশ কোটির ইয়াবা চালান উদ্ধার! অটো রিকশার গোপন চেম্বারে মরণ নেশার বিস্ময়কর চক্র।
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরা । ১৬ জুন । রিপোর্ট; মৃণময় রায়ঃ ত্রিপুরা রাজ্যে মাদক চক্রের দৌরাত্ম্য দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এবার সেই চিত্র আরও একবার প্রমাণিত হলো মুঙ্গিয়াকামি থানার আওতাধীন আঠারোমুড়া পাহাড়ে পুলিশের একটি চৌকস অভিযানের মাধ্যমে। বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) মুঙ্গিয়াকামি থানার পুলিশ নাকা চেকিং চলাকালীন সময় ৪১ মাইল এলাকায় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা একটি যাত্রীবাহী অটো রিকশা (নম্বর TR 01 M 3624) আটক করে এবং গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ মরণ নেশার ইয়াবা ট্যাবলেট।

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, গাড়িটি আমবাসা থেকে আগরতলার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। নাকা চেকিংয়ের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা গাড়িটিতে মেডিসিন জাতীয় তীব্র গন্ধ অনুভব করেন, যা তাদের সন্দেহের উদ্রেক করে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জানানো হয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও তেলিয়ামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক পান্নালাল সেনকে।
খবর পাওয়ার পরই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন মহকুমা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেট, মুঙ্গিয়াকামি থানার ওসি ও মহকুমা পুলিশ আধিকারিক। তাদের উপস্থিতিতে অটোটি সুনির্দিষ্টভাবে তল্লাশি চালানো হয় এবং গাড়ির চালকের আসনের নিচে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার করা হয় এক লক্ষ ইয়াবা ট্যাবলেট। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের বাজারমূল্য আনুমানিক ১০ কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ গ্রেফতার করে গাড়ির চালক বিকাশ দেব ও তার সহযোগী সুমন মজুমদারকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা মাদক পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানা গেছে।
তেলিয়ামুড়া মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শ্রী পান্নালাল সেন বলেন, “এই ধরণের মাদক চক্র রাজ্যের যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমাদের গোয়েন্দা তথ্য ছিল যে, আমবাসা অঞ্চল বর্তমানে একটি সক্রিয় মাদক চক্রের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তাই আমরা চেকিং তীব্র করেছি এবং সেই কারণেই এই চালানটি ধরা সম্ভব হয়েছে।”
বিশ্বস্ত পুলিশ সূত্রের বরাতে আরও জানা যায়, সম্প্রতি আমবাসা অঞ্চলটি রেল ও সড়কপথে মাদকের “হাব” বা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে, যার মাধ্যমে সহজেই মাদক পাচার করা হচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এমনকি আন্তঃরাজ্য স্তরেও। প্রশাসনের একাংশের মতে, এভাবে যদি সময়মতো মাদকের রুটগুলো ধ্বংস না করা যায়, তবে ভবিষ্যতে ত্রিপুরা একটি মাদক-মূলক অপরাধপ্রবণ এলাকায় পরিণত হতে পারে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে NDPS আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পেশ করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে পুলিশ অনুসন্ধান চালাচ্ছে এই মাদক পাচার চক্রের পেছনে থাকা মূলহোতা ও বৃহত্তর চক্রটি সম্পর্কে।
এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান আরও কঠোরভাবে ও ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হোক এবং ভবিষ্যতে যেন এই ধরণের ভয়ানক মাদক দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই দিকেও নজর দেওয়া হোক।








