মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী সাইকেলিষ্ট বাপ্পি দেবনাথকে সংবর্ধনা দিল তেলিয়ামুড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় — নেশামুক্ত ভারত গড়ার বার্তা ছড়িয়ে দিলেন বাঙালি যুবক।
তেলিয়ামুড়া, ০২ জুলাই ২০২৫ঃ ত্রিপুরা রাজ্যের চন্দ্রপুর এলাকার গর্ব, প্রথম বাঙালি সাইকেলিষ্ট হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয়ী বাপ্পি দেবনাথকে এক উজ্জ্বল সংবর্ধনার মাধ্যমে সম্মান জানালো তেলিয়ামুড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়। সোমবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়, যেখানে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
বাপ্পি দেবনাথ শুধুমাত্র একজন পর্বতারোহী নন, তিনি একজন অনুপ্রেরণাদায়ক সমাজসেবকও। ‘নেশামুক্ত ভারত গড়ি’ এই মহৎ বার্তা ছড়িয়ে দিতে তিনি তার সাইকেল নিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন। তার এই অসাধারণ সাফল্য আজ হাজারো তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। বাইসাইকেল অভিযানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে তিনি নেশাবিরোধী সচেতনতার আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “বাপ্পি দেবনাথ আমাদের গর্ব। তার জীবনযাত্রা ও সংকল্প আমাদের ছাত্রদের জন্য এক জীবন্ত পাঠশালা। আজকের প্রজন্মকে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে স্বপ্ন পূরণের পথে সমাজের কল্যাণকেও সঙ্গে নিয়ে চলা যায়।”
এই উপলক্ষে বিদ্যালয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করা হয়, যেখানে নেশামুক্ত সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তা, তরুণদের মধ্যে নেশা সংক্রান্ত ঝুঁকি এবং তা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়। সেমিনারে বাপ্পি দেবনাথ তার অভিজ্ঞতার কথা শোনান এবং কিভাবে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে সুস্থ থেকে একজন তরুণ নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে পারে সে সম্পর্কে মূল্যবান পরামর্শ দেন।
ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বাপ্পি দেবনাথকে সামনে পেয়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই তার সঙ্গে ছবি তোলে, প্রশ্ন করে এবং নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পরামর্শ নেয়। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নেশাবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক প্রশংসনীয় পদক্ষেপ বলে মত প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও।
বাপ্পি দেবনাথ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমি কৃতজ্ঞ তেলিয়ামুড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের প্রতি। এই সংবর্ধনা শুধু আমাকে নয়, নেশামুক্ত ভারতের স্বপ্নকে সম্মান জানিয়েছে। আমি চাই প্রতিটি তরুণ স্বপ্ন দেখুক, পরিশ্রম করুক, এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববান হয়ে উঠুক।”

অনুষ্ঠান শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং স্মারক প্রদান পর্বের মাধ্যমে দিনটি শেষ হয়। স্কুল প্রাঙ্গণে যেন এক অভূতপূর্ব আবহ তৈরি হয়েছিল এই বিশেষ দিনে।








