ত্রিপুরার সেবাপরায়ণ চিকিৎসক ডা. গণেশ গুপ্তের জীবনাবসান — হাজারো রোগীর হৃদয়ে রেখে গেলেন অমল ছাপ।
নিউজ ডেস্কঃ ত্রিপুরার স্বাস্থ্যসেবার জগতে এক অধ্যায়ের অবসান। প্রয়াত হলেন প্রবীণ চিকিৎসক ডা. গণেশ গুপ্ত। গত বৃহস্পতিবার, ২৬শে জুন, ৭৫ বছর বয়সে জীবনাবসান ঘটে এই মানবিক চিকিৎসকের।
জন্ম ১৯৪৯ সালে, আগরতলার কল্যাণী এলাকায়। জীবনের প্রায় পাঁচ দশক তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসা করে গেছেন শকুন্তলা রোড সংলগ্ন সমাজপতি বিজনেস সেন্টারে, বর্তমান ভি মার্ট সংলগ্ন এলাকায়। যেখানে সামান্য ১০ কিংবা ৫০ টাকার বিনিময়ে তিনি বহু রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন — অনেক সময় বিনা মূল্যেও। অর্থের অভাবে কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দেননি কখনো।
ত্রিপুরার চিকিৎসা জগতে তিনি ছিলেন এক অনন্য ব্যতিক্রম। যেখানে আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় বাণিজ্যিকতার ছায়া ক্রমেই ঘন হচ্ছে, সেখানে ডা. গুপ্ত ছিলেন মানুষের সেবায় নিবেদিত এক মহান কর্মযোগী। তার চিকিৎসার পরিধি ছিল শুধুমাত্র প্রেসক্রিপশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় — তিনি ছিলেন একজন শ্রদ্ধেয় পরামর্শদাতা, একজন স্নেহময় সহানুভূতিশীল ব্যক্তি, এবং একজন সত্যিকারের সমাজসেবক।
সাধারণ মানুষের প্রতি তার সহানুভূতি এবং দারিদ্র্যের প্রতি তার সংবেদনশীলতা ছিল তার জীবনের অন্যতম দিক। বহু গরিব, নিঃস্ব, অসহায় রোগী পেয়েছেন তার কাছে আশ্রয় ও চিকিৎসা — যেন ঈশ্বরের দূতের মতো তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
ডা. গণেশ গুপ্ত কখনো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হননি — সারাজীবন একা থেকেই সমাজের অসংখ্য মানুষকে পরিবার জ্ঞানে আপন করে নিয়েছেন। তিনি ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ সেবক, একজন দৃষ্টান্ত চিকিৎসক।
তার প্রস্থান শুধু একটি প্রজন্মের নয়, বরং এক আদর্শ চিন্তা ও মূল্যবোধের অবসান। আজকের দিনে, যখন চিকিৎসাকে শুধুই পেশা হিসেবে দেখা হয়, সেখানে ডা. গণেশ গুপ্ত ছিলেন এক উদাহরণ — চিকিৎসা কেমন করে হতে পারে সমাজসেবার শ্রেষ্ঠ রূপ, তিনি তা নিজের জীবন দিয়ে দেখিয়ে গেছেন।
ত্রিপুরা আজ হারালো তার প্রিয় চিকিৎসককে। কিন্তু তার কাজ, তার আদর্শ, তার ভালোবাসা মানুষের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
ডা. গণেশ গুপ্তের মতো মানুষেরা চলে গেলেও থেকে যান স্মৃতিতে, কর্মে, ভালোবাসায়। তার অবদান যেন ভবিষ্যতের প্রজন্মকে পথ দেখায় — কীভাবে একজন চিকিৎসক হতে পারেন প্রকৃত মানবসেবক।








