খোয়াই, ১৮ জুন: ত্রিপুরার খোয়াই জেলার অজগর টিলা এলাকায় এক মর্মস্পর্শী ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার উদঘাটন ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, এক সহজ-সরল ও অসহায় বৃদ্ধ রামকৃষ্ণ সরকার-কে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত করেছে আমবাসার একটি বেসরকারি ফিনান্স কোম্পানি। ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েক মাস আগে, যখন রামকৃষ্ণ সরকারের একমাত্র কন্যার জীবন দুঃখ-দুর্দশায় ঘেরা এক কঠিন মোড়ে এসে দাঁড়ায়। বহু স্বপ্ন আর প্রত্যাশা নিয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, মেয়ের স্বামী তাঁদের সন্তানের জন্মের মাত্র এক মাসের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন। পরিস্থিতির চাপে পড়ে, দুঃখভারাক্রান্ত পিতা রামকৃষ্ণ সরকার মেয়েকে সদ্যজাত সন্তানসহ নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। তখন তিনি জানতে পারেন, মৃত জামাতা তাঁর পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কয়েক লক্ষ টাকা লোন নিয়ে একটি ই-রিক্সা কিনেছিলেন। দুঃসহ জীবনের অস্থিরতায় একদিন রাস্তায় ই-রিক্সাটি দেখতে পান রামকৃষ্ণ। মেয়ের এবং সদ্য মাতৃহারা নাতির কথা ভেবে তিনি রিক্সাটি বাড়িতে নিয়ে আসেন, যাতে ভবিষ্যতে তা দিয়ে সামান্য কিছু আয় রোজগারের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু এখানেই শুরু হয় এক অদ্ভুত নাটক। অসহায় পিতার দুর্বল অবস্থার সুযোগ নেয় আমবাসার একটি ফিনান্স কোম্পানির কিছু সুযোগসন্ধানী কর্মী। তারা দাবি করে, ই-রিক্সার বকেয়া লোন বাবদ তাঁকে টাকা পরিশোধ করতে হবে, যদিও রিক্সাটি ক্রেতা তথা জামাতা মৃত এবং এখন তার পরিবার কোনো আয়ের উৎস ছাড়াই চলছে। ফিনান্স কোম্পানির প্রতিনিধিরা একাধিকবার গিয়ে রামকৃষ্ণ সরকারের কাছে চাপ সৃষ্টি করে টাকা আদায় করে নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তিন দফায় তাঁরা প্রায় ৩৩ হাজার টাকা গ্রহণ করেন, যার প্রতিটি কিস্তি দিতে গিয়ে চরম অর্থকষ্টে পড়েন বৃদ্ধ রামকৃষ্ণ। তবু তিনি মুখ খোলেননি—একমাত্র মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে, সদ্য পিতৃহারা শিশুর ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি সব সহ্য করে যান। কিন্তু একসময় যখন আর ধৈর্য ধারণ করা সম্ভব হয়নি, তখন তিনি সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেন। স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন, কীভাবে তাঁর অসহায় অবস্থাকে পুঁজি করে তাঁকে অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে নিঃস্ব করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ সামনে আসতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। প্রশ্ন উঠছে, কীভাবে একটি বেসরকারি ফিনান্স সংস্থা এক মৃত ব্যক্তির নাম করে তার শ্বশুরের কাছ থেকে জোর করে অর্থ আদায় করতে পারে?
রামকৃষ্ণ সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, “আমার তো আর কিছু চাওয়ার নেই, শুধু চাই মেয়েটা যেন বাঁচে, নাতিটার যেন ভবিষ্যত থাকে। এই অবস্থায় যেভাবে টাকা আদায় করেছে, তা খুব কষ্ট দিয়েছে। এমন অনৈতিক কার্যকলাপ রুখতে প্রয়োজন সক্রিয় সামাজিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগ—এটাই এখন সাধারণ মানুষের দাবি।








