দূর্গাবাড়ি, বামুটিয়া, ৯ মে ২০২৫: বিগত কয়েকদিন ধরে দূর্গাবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে অনলাইন বা কেশলেস পেমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে চলছিল বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ। অনেক শ্রমিক বেতন গ্রহণের পদ্ধতি বুঝতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েন। এই সুযোগে পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে সিপিআইএমের বিরুদ্ধে।
এই প্রেক্ষাপটে শনিবার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করে সমস্যার সমাধান এনে দেন বামুটিয়ার মণ্ডল সভাপতি শিবেন্দ্র দাস। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, শ্রমিকদের মধ্যে যেসব বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে এবং প্রকৃত তথ্য না জেনে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে সিপিআইএম।
শিবেন্দ্র দাস সিপিআইএম-এর শ্রমিক সংগঠনের নেতা শঙ্কর প্রসাদ দত্তকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আপনি বলছেন শ্রমিকরা বেতন পাচ্ছেন না, কিন্তু আপনি কি একবারও বাগানের ম্যানেজার বা পরিচালকদের সঙ্গে কথা বলেছেন? আসেননি, কারণ আপনাদের উদ্দেশ্য সমস্যার সমাধান নয়, বরং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিজেপি সরকার ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। যেখানে বাম শাসনে ৩৫ বছরে দৈনিক মজুরি ২৯ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছিল মাত্র ৭৬ টাকা, সেখানে বিজেপি সরকারের আমলে গত ৭ বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৬ টাকা।
মণ্ডল সভাপতির বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের সময়ে চা বাগানে স্থানীয় শ্রমিকদের চাকরি দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে সুভাষ ভর, অজিত মন্ডা, পরিতোষ দেব, জিতেন মুন্ডা, অজিত কল, কার্ত্তিক ভর ও অজিত তাঁতির মতো অনেকেই। বিপরীতে, পূর্বতন শাসন আমলে যাদের নিয়োগ হয়েছিল তারা ছিলেন হিমাংশু দেব (জলিল্পুর), বাবুল মজুমদার (রাঙ্গুটিয়া) ও দুলাল ভৌমিক (দূর্গাবাড়ী বাজার)।
বর্তমানে দূর্গাবাড়ি চা বাগানের শ্রমিকরা বেতন ছাড়াও পাচ্ছেন ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বোনাস ও বিভিন্ন সরকারী অনুদান, যা পূর্বতন সরকারের সময়ে ছিল অনেকটাই অপ্রাপ্তির পর্যায়ে।
এই উদ্যোগ এবং মন্তব্যের মাধ্যমে শিবেন্দ্র দাস কেবল বিভ্রান্তির অবসান ঘটাননি, বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে তথ্যের ভিত্তিতে কঠোর জবাবও দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলেই মনে করছে স্থানীয় মহল।








