খেলার খবর । নিউজ ডেস্কঃ একরাশ হতাশা এবং অনিশ্চয়তা নিয়ে নতুন মরসুম শুরু করতে চলেছে উত্তর লন্ডনের ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার। উয়েফা সুপার কাপে প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর কাছে বেদনাদায়ক হারের ক্ষত এখনো দগদগে। এর মধ্যেই শনিবার, বার্নলির বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে তাদের ২০২৫-২৬ সালের ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ অভিযান। এই মরসুমটি ক্লাবটির জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, কারণ ডাগআউটে থাকছেন নতুন ম্যানেজার টমাস ফ্র্যাঙ্ক। অ্যাঞ্জ পোস্তেকোগলুর উত্তরসূরি হিসেবে তাঁর কাঁধে এখন এক বিশাল দায়িত্ব। বিদ্রূপের বিষয় হলো, পোস্তেকোগলুকে বরখাস্ত করা হয়েছিল ক্লাবকে উয়েফা ইউরোপা লিগ জেতানোর মাত্র কয়েকদিন পরেই।
লক্ষ্য:
ব্রেন্টফোর্ডের প্রাক্তন এই কোচের জন্য টটেনহ্যামের দায়িত্ব নেওয়াটা কোনো ফুলের বিছানা নয়। গত মরসুমে প্রিমিয়ার লিগ যুগে ক্লাবের ইতিহাসে সর্বনিম্ন, অর্থাৎ ১৭তম স্থানে শেষ করে টটেনহ্যাম। সেখান থেকে দলটিকে টেনে তুলে আবার ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার জন্য যোগ্য করে তোলাই হবে ফ্র্যাঙ্কের প্রাথমিক এবং প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু এই কঠিন যাত্রার শুরুতেই তিনি বড়সড় ধাক্কা খেয়েছেন। দলের দুই অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি, জেমস ম্যাডিসন এবং ডেজান কুলুসেভস্কি, গুরুতর চোটের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন। এই দুই সৃজনশীল মিডফিল্ডারের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে কোচের পরিকল্পনাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
ফ্র্যাঙ্কের দর্শন এবং সম্ভাব্য ফর্মেশন:
টমাস ফ্র্যাঙ্ক মূলত ৪-৩-৩ ফর্মেশনে দল খেলাতে পছন্দ করেন, যা তাঁর কোচিং দর্শনের পরিচায়ক। যদি ম্যাডিসন বা কুলুসেভস্কির মধ্যে অন্তত একজনও সুস্থ থাকতেন, তবে তিনি হয়তো ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে যাওয়ার কথা ভাবতে পারতেন। কারণ এই দুই খেলোয়াড়ই ‘নাম্বার ১০’ বা প্লেমেকারের ভূমিকায় অত্যন্ত পারদর্শী। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে, নিজের পরিচিত এবং পরীক্ষিত ৪-৩-৩ ছকেই দল সাজানোর সম্ভাবনা বেশি। এই ফর্মেশনে তিনজন মিডফিল্ডারের ওপর চাপ বাড়বে এবং আক্রমণভাগের তিনজনকে অনেক বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।
সনের বিদায় এবং কুদুসের আগমন:
এই মরসুমে টটেনহ্যামকে শুধু চোট-আঘাতের সমস্যাই নয়, একজন কিংবদন্তির বিদায়ের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়ার মহাতারকা এবং ক্লাবের দীর্ঘদিনের প্রাণভোমরা হিউং-মিন সন এক দশক পর ক্লাব ছেড়েছেন। তাঁর চলে যাওয়ায় আক্রমণভাগে যে বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করার গুরুদায়িত্ব এখন নতুন আসা ঘানার ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ কুদুসের কাঁধে।
নজরে থাকবেন যিনি: মোহাম্মদ কুদুস
সনের অনুপস্থিতিতে টমাস ফ্র্যাঙ্কের দলের তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন সদ্যই ওয়েস্ট হ্যাম থেকে আসা মোহাম্মদ কুদুস। উইং বরাবর তাঁর গতি এবং ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের রক্ষণে কাঁপুনি ধরাতে সক্ষম। প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চে তিনি ইতিমধ্যেই নিজের জাত চিনিয়েছেন। গত দুই মরসুমে ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেডের হয়ে ৬৫টি ম্যাচে ২৫টি গোলে (গোল করা বা করানো) সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, ইউরোপীয় ফুটবলের মঞ্চেও তিনি অপরিচিত নন। ২০২৩-২৪ মরসুমে ওয়েস্ট হ্যামের হয়ে ইউরোপা লিগে মাত্র ৯টি ম্যাচে ৫টি গোল করে তিনি নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। দীর্ঘ তিন বছর পর টটেনহ্যাম যখন উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মতো বড় মঞ্চে ফিরছে, তখন কুদুসের এই ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা দলের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান প্রমাণিত হবে। এখন দেখার বিষয়, নতুন কোচ, নতুন তারকা এবং একরাশ প্রতিকূলতাকে সঙ্গী করে টটেনহ্যাম হটস্পার এই মরসুমে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে।








