তেলিয়ামুড়ার মোহরছড়া বিদ্যালয়ে ফের ভৌতিক তাণ্ডব! আতঙ্কে অসুস্থ চার শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ!
তেলিয়ামুড়া, ত্রিপুরা । ২৫ জুলাই ২০২৫ঃ তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত মোহরছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ে আজ সকাল থেকেই এক ভয়াবহ আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের বাথরুমে এক অজ্ঞাত ও রহস্যময় মুণ্ডহীন ছায়া দেখতে পাওয়ার দাবি করেছে একাধিক শিক্ষার্থী। যার জেরে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়ে মোট চারজন ছাত্রছাত্রী। তাদের মধ্যে তিনজন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী এবং একজন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র রয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুর নাগাদ ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র মনোজিৎ মন্ডল স্কুল চলাকালীন প্রাকৃতিক কাজ সারতে যায় বাথরুমে। সেখানে হঠাৎ করেই তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক ভয়ংকর দৃশ্য— মাথাহীন এক কালো মানুষ, যার দেহ বিকৃত, মুখ নেই, অথচ তার দিকেই তাকিয়ে যেন দাঁড়িয়ে আছে। এই দৃশ্য দেখে মনোজিৎ এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে যে সে দৌঁড়ে বাইরে এসে অজ্ঞান হয়ে পড়ে।
এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই আরও তিনজন ছাত্রী— দিয়া দেবনাথ, তনুশ্রী সরকার ও শুভশ্রী দেবনাথ— একই বাথরুম ব্যবহার করতে গেলে তারাও একই ধরনের মূর্তিকে দেখেছে বলে জানায়। আতঙ্কে কেঁদে ওঠে তারা, চিৎকার করতে থাকে, এবং একপর্যায়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিষয়টি দেখে শিক্ষক-শিক্ষিকারা সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় হন এবং চারজন অসুস্থ ছাত্রছাত্রীকে দ্রুত তেলিয়ামুড়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা চলছে।
উল্লেখযোগ্য, মোহরছড়া দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয় বহুদিন ধরেই নানা ভৌতিক কান্ডের কারণে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করে থাকেন, এই বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট কিছু অংশ— বিশেষ করে বাথরুম এলাকা— বহু বছর ধরে “অশরীরী শক্তির” প্রভাবাধীন। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী এবং এলাকাবাসীদের মধ্যে এ নিয়ে বহু গুজব এবং কাহিনি প্রচলিত রয়েছে।
একাধিক অভিভাবক দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করে এসেছেন— ওই বাথরুম বন্ধ করে দেওয়া হোক কিংবা ভেঙে ফেলা হোক। এমনকি কিছু অভিভাবক অভিযোগ করেছেন, বিদ্যালয়ের ভিতরে আগেও ঘটে গেছে রহস্যজনক অপমৃত্যুর ঘটনা, যা স্কুল কর্তৃপক্ষ কখনও খোলাখুলি স্বীকার করেনি। এইসব ঘটনা মিলিয়ে আজকের এই ভৌতিক আতঙ্ক যেন নতুন করে সেই পুরনো আতঙ্ককে জীবন্ত করে তুলেছে।
আজকের ঘটনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসন ও শিক্ষা দফতর যেন অবিলম্বে তদন্ত করে এই ঘটনার আসল কারণ বের করে। বিদ্যালয়ের পরিবেশ যাতে মানসিক ও শারীরিকভাবে নিরাপদ থাকে, তার ব্যবস্থা করতে হবে দ্রুত।
এই ঘটনাটি শুধুই কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে সত্যিই কোনো অতিপ্রাকৃত বা মনস্তাত্ত্বিক রহস্য লুকিয়ে আছে? শিক্ষার্থীদের চোখে দেখা সেই ‘মুণ্ডহীন ছায়া’ কি নিছক ভ্রম, না কি এ এলাকায় এখনও অজানা কোনো ইতিহাসের ছায়া রয়ে গেছে?”
সময়ই দেবে তার উত্তর। তবে এখনই জরুরি— তদন্ত, মনোবিদ পরামর্শ এবং সঠিক পদক্ষেপ। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনোই ভয়ের কেন্দ্র হতে পারে না। সেখানে চাই সাহস, শিক্ষা এবং নিরাপত্তা








