হুমকির মুখে সাংবাদিক, ত্রিপুরা জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিবাদ—দ্রুত গ্রেফতার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি।
বামুটিয়া । ত্রিপুরা । ২০ জুলাইঃ ত্রিপুরার সাংবাদিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এক মারাত্মক ঘটনায়, যেখানে এক সংবাদকর্মীকে প্রকাশ্যে হুমকি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।
গত ৭ জুলাই সোমবার ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যা সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সংবাদটি ঘিরে সমাজের বিভিন্ন স্তরে নানা প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু পরবর্তী প্রতিক্রিয়াটি যে এতটা বিপজ্জনক রূপ নেবে, তা কেউই কল্পনা করতে পারেনি।
উক্ত প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে ১৯ জুলাই, ২০২৫, শনিবার, শ্যামল দে নামে এক স্থানীয় ব্যক্তি সাংবাদিক তাপস দে-কে ফোন করে সরাসরি হুমকি প্রদান করেন। শুধু তাই নয়, তিনি দলবল নিয়ে ওই সাংবাদিকের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেন, যা একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজে অগ্রহণযোগ্য এবং নিন্দনীয়।
এই ঘটনা সামনে আসতেই সাংবাদিক মহলে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ত্রিপুরা (JAT) এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি কেবল একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ওপর হুমকি নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।”
সংগঠনের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি পেশাদার দায়িত্ব পালনের জন্য যদি একজন সাংবাদিককে এমন হুমকি ও নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়, তবে তা সমাজের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বার্তা বহন করে।
এ ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় রবিবার সন্ধ্যা নাগাদ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব ত্রিপুরা-র পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল আগরতলার এয়ারপোর্ট থানায় উপস্থিত হয়ে থানার অফিসার-ইন-চার্জ অভিজিৎ মন্ডল-এর হাতে একটি ডেপুটেশন জমা দেন।
ডেপুটেশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, দোষী শ্যামল দে-কে অবিলম্বে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
উক্ত প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি বিক্রম কর্মকার, সদস্য রাহুল শীল, দীপ্তনু সেন, হুমকির শিকার হওয়া সাংবাদিক তাপস দে নিজে, এবং অন্যান্য সদস্যরা।
তাঁরা প্রশাসনের কাছে দাবী করেন, এই ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার সাহস না পায়।
সাংবাদিক সমাজ আশাবাদী, প্রশাসন দোষীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।








