ত্রিপুরায় রাজনৈতিক সহিংসতা ফের চরমে, তিপ্রা মথার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বিজেপির।
আশারাম বাড়ি, ত্রিপুরা । ২৭ জুলাই ২০২৫ঃ ত্রিপুরার রাজনীতিতে আবারও উত্তাল পরিস্থিতি। আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীর ১২৪ তম ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান চলাকালীন, রাজ্যের অন্যতম শরিক দল তিপ্রা মথার কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানী আগরতলার কাছেই অবস্থিত আশারাম বাড়ি এলাকায়।

আজ সকাল আনুমানিক ১১টার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রতি মাসে সম্প্রচারিত ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের ১২৪তম পর্ব উপভোগ করতে আশারাম বাড়ি এলাকায় একটি সমবেত অনুষ্ঠান আয়োজন করেছিল ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতা, মহিলা মোর্চা, যুব মোর্চা ও অন্যান্য কর্মী-সমর্থকরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ঠিক তখনই সেখানে অতর্কিতভাবে আক্রমণ চালায় তিপ্রা মথা দলের একদল উগ্র কর্মী। চিৎকার, গালিগালাজ এবং হঠাৎ করেই শুরু হয় মারধর ও পাথর ছোড়ার মতো সহিংস কর্মকাণ্ড। এই আক্রমণে আহত হন বহু বিজেপি নেতা-কর্মী। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

“আমরা চুপচাপ বসে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনছিলাম, হঠাৎ একদল লোক এসে গালাগালি দিতে শুরু করে। তারপরে শুরু হয় মারধর। অনেকেই রক্তাক্ত। ওরা আমাদের গাড়িও ভেঙে দিয়েছে।”
এই ঘটনার পরপরই এলাকায় বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত মোতায়েন করা হয় স্থানীয় থানা ও অতিরিক্ত বাহিনী। আশপাশের দোকানপাট ও রাস্তাঘাটও কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। বিজেপির তরফ থেকে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।
ত্রিপুরার রাজনীতিতে এই ধরনের সহিংসতা নতুন নয়, তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মত একজন শীর্ষ নেতৃত্বের অনুষ্ঠানে হামলা চালানো নিঃসন্দেহে গভীর রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয় বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই হামলা পূর্বপরিকল্পিত এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কাজ করেছে। তারা প্রশাসনের কাছে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে তিপ্রা মথার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের মতো একটি জাতীয় গুরুত্বের মুহূর্তে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র রাজনৈতিক শিষ্টাচারকে আঘাত করেনি, বরং রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশকেও চরমভাবে বিঘ্নিত করেছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা ত্রিপুরা।








